সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

ভালোর জন্যে বন্ধুত্ব

বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কতকিছুই না শেয়ার করে! একটা সময় ছিলো যখন নিজেদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটার আদান প্রদান ছিলো বন্ধুত্বের পূর্বশর্ত। কিন্তু যুগের পরিবর্তন হয়েছে। বন্ধুত্বের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়েছে। এই সংজ্ঞা নিয়ে রীতিমতো বিতর্কও আছে! ফেসবুকে সবাই ফ্রেইন্ড... ছেলে বুড়ো সবাই। প্রেমিক প্রেমিকার প্রাথমিক পরিচয় এখন 'জাস্ট ফ্রেইন্ড' থেকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ফ্রেইন্ড-এর সংজ্ঞা এতটাই জটিল যে সেটা জীবনে অহেতুক রকমের সন্দেহ আর দ্বন্দ তৈরী করছে। সংসার জীবনে অশান্তি তৈরী করছে, প্রেমিক প্রেমিকাতে ঝগড়া অথবা ভাঙ্গন। ফ্রেইন্ড কে সময় দিতে গিয়ে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই বাকি থেকে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এমন দৃষ্টান্ত আমাদের সবার আশেপাশে আছে যারা অহেতুক রাতের পর রাত কথা বলার জন্যে লেখাপড়ায় ডাব্বা মারছে, শরীর খারাপ করছে। যদি জিজ্ঞেস করা হয় কার সাথে কথা চলছে বলবে - ফ্রেইন্ড! এমন পরিবারের কথা আমি জানি যেখানে ফ্রেইন্ড শব্দটা একটা বিভীষিকা। ছেলে-মেয়েতে শুধু বন্ধুত্ব হয়না নাকি হয় এসব প্রশ্ন করা এখন অশোভন। কিন্তু কোনটা ফ্রেইন্ডশিপ আর কোনটা প্রেম এই জটিলতার নজির অসংখ্য। নৈতিকতার সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে এই ফ্রেইন্ডশিপ-এর বেড়াজালে। জটিলতার আরেক মাত্রা এসেছে প্রেমের ডিজিটাইজ ভার্সনে। এখন প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড শেয়ার করতে হয়, মোবাইলের কল লিস্ট, এসএমএস দেখাতে হয়। দৈনন্দিন কথাবার্তার বড় অংশ জুড়ে থাকছে এখানকার কর্মকান্ডের হিসাব নিকাশ নিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা তৈরী করছে সন্দেহ আর দ্বন্দ। বন্ধুত্ব জীবনকে সহজ করার কথা, এমন বন্ধুত্বই দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর বাইরে যা হচ্ছে তা বন্ধুত্ব না, হয়তো জিভ উল্টিয়ে খুব ভাব মেরে কেউ বলতে পারে 'ফ্রেইন্ডশিপ' কিন্তু তা আমাদের চিরচেনা বন্ধুর রূপ না। বন্ধুর সাথে বিশ্বাসের সম্পর্ক।
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

friendship, believe, trust, facebook, trend, hate