সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

women-confidence-protection.jpg

আত্মরক্ষার আত্মবিশ্বাস যৌন নিপীড়ন মোকাবেলা করতে হবে আমাদেরই

প্রায় শান্তিপূর্ণভাবেই সারাদেশে এই বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য উৎসব পালিত হয়েছে। কিন্তু এই যৌন হয়রানির ঘটনাটি যেন সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যে এক বিন্দু কালিমা। শোনা যাচ্ছে ৩০-৩৫ জন বা তার অধিক একটি সংঘবদ্ধ দল বর্ষবরণ উৎসবে যৌন-হয়রানির ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই যৌন-নিপীড়কদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে গোটা জাতি সন্তুষ্ট হত।

আমি নিশ্চিত ভুক্তভোগী মেয়েদের একজন যদি সাহস এবং শক্তি দিয়ে ওই নোংরা পুরুষের একজনের নাক বরাবর ঘুষি বা লাথি দিতে পারত, তাহলে অন্য মেয়েরা তার দেখাদেখি একই কাজ করত এবং আশেপাশের সহানুভূতিশীল পুরুষরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে মেয়েদের সঙ্গে যোগ দিত। এভাবেই নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব।

প্রসঙ্গক্রমে, অনেকদিন থেকে ফেসবুকে নারীর নিরাপত্তা বিষয়ক একটা ভিডিও দেখছি। আমার পরিচিত অনেকে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই আবার নারীর অধিকার বিষয়ে সোচ্চার। সেই ভিডিওতে দেখা যায় একটা অল্পবয়সী শিক্ষার্থী বই হাতে একা হেঁটে যাচ্ছে, দু`জন ছেলে অসৎ-উদ্দেশ্যে মেয়েটির পিছু নেয়। কিন্তু মেয়েটিকে রক্ষা করার জন্য আশেপাশের কয়েকজন সংবেদনশীল ছেলে চারিদিকে এক বৃত্ত তৈরি করে। এতে খারাপ ছেলেগুলোর উদ্দেশ্য বিফল হয়। এই ভিডিওর বার্তাটি হচ্ছে, যদি কোনও মেয়ে নিপীড়নের শিকার হয় বা তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে ভালো ছেলেদের দায়িত্ব তাকে রক্ষা করা।

ইহা ওমুকে করছে, ইহা তমুকের ওপর আঘাত... এই ধরনের হাবিজাবি কথা বলে মূল বিষয়কে আড়াল করার প্রবণতা মানে দণ্ডনীয় অপরাধকে লঘু করা। যা বারবার অন্যায় ঘটনা ঘটাতে সাহায্য করে। মনে হচ্ছে, নববর্ষের ঘটনাটিকে সেভাবেই প্রভাবিত করা হচ্ছে। সহজ-সরল বিষয় হচ্ছে, একদল যৌন-নিপীড়ক ঘটনাটি ঘটিয়েছে যা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর যথাযথ শাস্তি হতে হবে।

জনসমক্ষে বিশেষ করে কোনও উৎসব-পার্বণে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। পাশাপাশি, যেকোনও পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বিষয়ে সজাগ থাকা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব ব্যক্তির নিজের। কথায় বলে, নিজেকে সাহায্য করা সর্বত্তোম পন্থা। নারী উন্নয়ন-অধিকার নিয়ে যারা সোচ্চার, তারা এই আলোকেই তৎপর হলে সফলতা আসবে মনে করি।

আত্মরক্ষা নিশ্চিত করতে নারীর প্রয়োজনীয় সচেতনতা, শারীরিক এবং মানসিকভাবে যথেষ্ট সক্ষমতা থাকতে হবে। আর এই সচেতনতা এবং সক্ষমতা তৈরি করার দায়িত্ব পরিবার, স্কুল, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ এবং বেসরকারি সংগঠনগুলো। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নারীর শারীরিক সক্ষমতা। অথচ, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে প্রথমত প্রতিরোধ তৈরি করতে অথবা দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে যে শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশল জানা থাকা দরকার, তা আমাদের দেশের নারীদের নেই।

তাই শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে শারীরিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আত্মরক্ষামূলক বিষয় বাধ্যতামূলক করা জরুরি। এ সবই আত্মবিশ্বাস উন্নয়নে সহায়ক। অন্যদিকে মেয়েদের স্কুল এবং পরিবার থেকে যৌন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরশীলভাবে অবস্থান নিতে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে মেয়েদের পরোক্ষভাবে এসবে নিরুৎসাহিত করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রায়ই দেখা যায় নিরাপত্তার নামে মেয়েদের সার্বক্ষণিক অতি-নিরাপত্তা এবং অতি রক্ষণশীল বলয়ের মধ্যে থাকতে হয়। পরিবার থেকে মেয়েদের সাধারণত বাড়ির বাইরের কোনও কাজে পাঠানো হয় না। এই অতি নিরাপত্তায় মেয়েরা যথেষ্ট আত্মনির্ভরশীল হতে পারে না। ফলে অনেক বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে শিখতে পারে না। বাড়ির বাইরে হয়ত নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে কিন্তু তা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে ধারণা থাকা এবং প্রস্তুত থাকাটা জরুরি।

যৌন-নিপীড়ন, সহিংসতারোধে সমন্বিত কর্মসূচি এবং তৎপরতা অত্যাবশ্যক, ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে। নববর্ষসহ সকল উৎসব উদযাপন চলবে, যেখানে থাকবে নারীর বর্ণিল উপস্থিতি, আনন্দ এবং উচ্ছ্বাস। সেখানে থাকতে হবে সরকারের পক্ষ থেকে নারীর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিবেশ।

উৎসব শেষে সংবাদ মাধ্যম গুলোতে থাকবে সচিত্র আনন্দময় উৎসবের সংবাদ।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

culprit, harassment, women, education, protection, defense, Confidence