সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

ছবি এবং ছবিবই

প্রযুক্তির এই প্রগতির সময়ে প্রতিনিয়ত যেভাবে আমরা জড়িয়ে পড়ছি, তাকে ভালো বলবো না খারাপ বলবো জানিনা। তবে কিছু কিছু বিষয় বিরক্তির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। তার একটা উদাহরণ হলো ছবি তোলা। যেকোন বিষয়ে ছবি তোলা আর সেটা ফেসবুকে আপলোড করে ট্যাগ করাটা কারো কারো জন্য নেশার মতো হয়ে গেছে। বিয়ে, জন্মদিন কি ছোটখাট একটা গেটটুগেদার, যেকোন অনুষ্ঠানে গিয়ে আর কারো সাথে পরিচিত হবার বা কথা বলার সুযোগ নেই। সবাই ব্যস্ত ছবি তোলা নিয়ে। এমনকি ছবি তুলতে তুলতেই অ্যালবামের নামও ঠিক করা হয়ে যাচ্ছে! এমনও হয়েছে অনেকদিন পর পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা হলো। কোথায় জমিয়ে আড্ডা দিবো তা না কয়েকজন ব্যস্ত হয়ে পড়লো ফটোসেশন নিয়ে। আবার ল্যাপটপ বা মোবাইল থেকে ততক্ষণাট আপলোডও করা হয়ে গেল। কোনো জায়গায় বেড়াতে গেলেও একই ব্যাপার। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার থেকে ছবির ডিসপ্লের দিকেই সবার মনো্যোগ বেশি থাকে। ডিজিটাল হওয়া ভালো কিন্তু বেশি হলে তা সবার জন্যই বিরক্তিকর হয়ে যায়। তরুনদের আর এক ক্রেজ ডিএসএলআর ক্যামেরা। অনেকেই হুজুগে পড়ে কিনছে কিন্তু জানছেও না এর মানে কি! সবাই এখন ফটোগ্রাফার হতে চায়। কয়েকটা ম্যাক্রো ফটো শুট করে আর FB তে বন্ধুদের অসংখ্য কমেন্ট পেয়ে সবাই এখন নিজেদের উদীয়মান প্রতিভাবান ফটোগ্রাফার ভাবছে! কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে এটা শুধুই একটা বিলাসিতা। পরিবারের আর্থিক দিক ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করে কারো উচিত না বাবা মাকে এসব কিনে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া। এটা ঠিক যে স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ছবির চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারেনা । কিন্তু সেই স্মৃতি ধরে রাখতে গিয়ে যেন আমরা আমাদের সুন্দর সময়টুকু নষ্ট করে না ফেলি!
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

culture, facebook, photo, photography, camera